বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজপুকুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও চাঁদা না দেওয়ার জেরে প্রতিপরে হামলায় নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে দুজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত (৬ সেপ্টেম্বর) কাগজপুকুর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো: হযরত আলী লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি প্রবাসে থাকা শালা জালাল হোসেনের নতুন বাড়ি নির্মাণের দেখভাল করছেন। ওই জমির সীমানা নিয়ে পাশের বাড়ির মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মোখলেছুর রহমান তার নিজস্ব জমি বাদ দিয়ে জালালের জমির ভেতরে জায়গা দাবি করে আসছেন। একাধিকবার আমিন এনে মাপজোখ করার কথা বললেও তিনি তা এড়িয়ে যান।
অভিযোগে আরও প্রকাশ পায়, স্থানীয় কুচক্রী মহলের ইন্ধনে কাগজপুকুরের মান্নানের ছেলে কাসেম, আক্তার, কাসেমের ছেলে ইয়ানুর, শাখারীপোতার জাহাঙ্গীরের ছেলে রবিউল, সদু মিয়া, লেটু মিয়া এবং মোখলেছের ছেলে নাজমুলসহ কয়েকজন অতর্কিতভাবে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মো: হযরত আলী এবং তার শ্যালক আলমগীর গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নাভারণ বুরুজবাগান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শ্যালকের স্ত্রী নার্গিস খাতুন ও তার ছেলে অয়ন হোসেন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ৫৬৮ খতিয়ানে প্রবাসীর পরিবারের মোট জমির পরিমাণ ৩৭ শতক এবং মোখলেছুর রহমানের জমির পরিমাণ সাড়ে ২৪ শতাংশ। মোখলেছুর রহমান অবৈধভাবে ওই জমি থেকে ১ শতক জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এছাড়া হামলাকারী কাসেম মাস খানেক আগে জমি নিয়ে আর কোনো বিরোধ হবে না বলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়। এর আগে কাসেমের ভাই আক্তার হোসেন চাঁদা বাবদ ১ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে কাশেম এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি হামলার সাথে এবং চাদা চাওয়ার সাথে জড়িত নয় বলে জানান। তিনি বলেন গ্রামে তাদের পাশাপাশি দুই পরিবারের জমি সংক্রান্ত দ্বন্দের মধ্যে আমি বা আমার স্বজনরা জড়িত নয়। আমার নামে মিথ্যা কুৎসা রটনা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে নিরপে আমিন দিয়ে জমি মেপে সঠিক সীমানা নির্ধারণ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।