বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে জালিয়াতি ও রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা যেন পিছু ছাড়ছে না। একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার পরও রহস্যজনকভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছে অসাধু চক্র। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ২৯ নম্বর শেড থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তিনটি ট্রাকভর্তি পণ্য বের হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বন্দরের দুই শেড ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম ও রিপন বিশ্বাসকে কোজ এবং কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল ও তরিকুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরও সেই একই ২৯ নম্বর শেডেই আবারও ধরা পড়েছে ঘোষণা বহির্ভূত অতিরিক্ত পণ্যের চালান।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর ভারতের অংশ থেকে বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেডে প্রবেশ করে ১৩৮৫ ১৩৮৫ প্যাকেজের একটি সোলাই ইনভার্টার সেটের চালান। যার ম্যানিফেস্ট নম্বর- ৬১৩৬৫ (তারিখ: ৩/১০/২০২৬)। চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ‘আইপিএস হাটবাজার’ এবং খালাসের দায়িত্বে রয়েছে বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘দি কমার্শিয়াল অ্যাসোসিয়েটস’। চালানের মোট ওজন ১৭,৬৫১ কেজি এবং ঘোষিত মূল্য ৭৪,৯৯৫ মার্কিন ডলার।
কাগজপত্রে ১৩৮১ প্যাকেজ ঘোষণার কথা থাকলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তা ও বন্দর কর্তৃপ চালানটি গণনা ও ওজন করেন। এতে চালানের ভেতর অতিরিক্ত ৪ কার্টন পণ্য পাওয়া যায়, যার মধ্যে রয়েছে সার্কিট পার্টস।
বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত শেড ইনচার্জ জামাল হোসেন জানান, “চালানটিতে অতিরিক্ত ৪ কার্টন ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য থাকায় তা আটক করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপরে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মালামাল পরীক্ষন হবে তারপর এটা ছাড়ার বিষয় ফাইনাল হবে।
এ বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘দি কমার্শিয়াল অ্যাসোসিয়েটস’-এর সত্ত্বাধিকারী শিমুল হোসেন বলেন, “বিশাল চালানের মধ্যে মাত্র ৪ কার্টন পণ্য বেশি এসেছে, যাকে অতিরিক্ত বা অসংগতি বলা চলে না। আমরা ইতোমধ্যে জরিমানা দিয়ে চালানটি খালাসের জন্য আবেদন করেছি। তাছাড়া আমাদের মোট পণ্যের ওজন ঘোষিত ওজনের চেয়ে অনেক কম রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, বারবার বিতর্কিত এই ২৯ নম্বর শেডকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র জালিয়াতি ও রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করলেও কেন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? অপরাধের পুনরাবৃত্তি সত্ত্বেও আমদানিকারক কিংবা সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি না হওয়ায় এসব অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত-এর মুঠোফোনে বার্তা (মেসেজ) পাঠানো হলে তিনি বলেন আমি ট্রেনিংয়ে আছি।