ভেঙে পড়ছে শ্রেণিকক্ষ, খোলা আকাশের নিচে ভবিষ্যৎ

ছানোয়ার হোসেন বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি: দেয়ালের একাংশ ধসে পড়েছে। মেঝের অংশবিশেষ দেবে গেছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে কোনো রকমে দাঁড় করিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। অথচ এই ভবনেই নিয়মিত পাঠদান চলার কথা। কিন্তু দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে প্রায় এক মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে বিদ্যালয়ের মাঠে বসেই ক্লাস করতে হচ্ছে ছাত্রীদের।

এমন ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বৃষ্টি নামলেই মাঠের পাঠদানও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে তাদের পড়াশোনা।
রবিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাঠে বসে ক্লাস করছে। কোনো শ্রেণির পাঠদান চলছে বিদ্যালয়ের বারান্দায়। অথচ পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। একটি শ্রেণিকক্ষের পেছনের দেয়ালের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। মেঝের একাংশ ভেঙে দেবে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল এতটাই স্পষ্ট যে, যেকোনো সময় আরও অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে রয়েছে পুকুর। ফলে নড়বড়ে ভবনটি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আরও বেশি আতঙ্ক। শিক্ষার্থীদের ভাষায়, শ্রেণিকক্ষে ঢুকলেই মনে হয় কখন কী ঘটে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলে, এই রুমে বসে থাকতে ভয় লাগে। কখন দেয়াল ভেঙে পড়ে, সেই আতঙ্ক মাথায় ঘুরপাক খায়। তাই স্যারেরা মাঠে ক্লাস করাচ্ছেন। কিন্তু বৃষ্টি হলে ক্লাস করা যায় না।
অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জহুরা বলে, প্রায় এক মাস ধরে আমরা স্কুল মাঠে পাঠদান করছি। প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টির কারণে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। সামনে আমাদের বৃত্তি পরীক্ষা। দ্রুত শ্রেণিকক্ষ সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ রানা বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ভবন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ভবনের সংকট ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের তিনটি কক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি কক্ষের দেয়াল ধসে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়ে বাইরে ক্লাস নিতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি হওয়ার কথা যে বিদ্যালয়, সেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষই যদি মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সন্তানদের সেখানে পাঠাবেন কীভাবে?
বদলগাছী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, নতুন ভবনের চাহিদা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু মেয়েরা মাঠে পাঠদান করছে, শ্রেণিকক্ষ সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *