২০২৭ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন ইউএনও-আনোয়ার হোসেন:তিন বিষয়ে প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু

শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক) : আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করা, পরীক্ষার ভীতি দূর করা এবং পাশের হার বাড়ানোর জন্য যশোরের কেশবপুরে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষা। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার ৫টি কেন্দ্রে একযোগে ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এই প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষার সূচনা করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরের ১১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ২,৪৫০ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও প্রথম দিনের পরীক্ষায় ২২৯৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। আগামী দুই শনিবার যথাক্রমে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং সাধারণ গণিত বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

পরীক্ষা পরিচালনার জন্য পৌর শহরের কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেশবপুর বাহরুল উলুম কামিল মাদরাসা, কেশবপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সাগরদাঁড়ি এমএম ইনস্টিটিউশন কে কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিগত ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কেশবপুর উপজেলার আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর ২৬০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাধ্যমিকে পাশের হার ছিল ৫৩ শতাংশ এবং দাখিলে ছিল ৪৭ শতাংশ, যার গড় পাশের হার দাঁড়ায় মাত্র ৫০ শতাংশ। 

মূল বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করতেই মূলত উপজেলা প্রশাসন এই অগ্রিম প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষার আয়োজন করেছে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন “গত বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার সামগ্রিক ফলাফল সন্তোষজনক ছিলো না। আগামী পরীক্ষায় যেন শিক্ষার্থীরা মূল বিষয়গুলোতে ভালো করতে পারে, সে লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরামর্শে এই বিশেষ মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, কেশবপুর উপজেলায় যোগদানের পরপরই বিগত এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। পরীক্ষার ভীতি দূর করে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রাক-মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। নিয়ম মেনে এ ধরনের অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দুর্বলতাগুলো শুধরে নিতে পারবে এবং আশা করছি ২০২৭ সালের চূড়ান্ত পরীক্ষায় তারা আশাব্যঞ্জক ফলাফল অর্জন করবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *