যশোরের শার্শায় বৃদ্ধকে ব্ল্যাকমেইল করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের অভিযোগ, তীর বিএনপির নেতার দিকে

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলোট গ্রামে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ গোলাম হোসেনকে অনৈতিক কাজের মিথ্যা অভিযোগে আটক করে জোরপূর্বক ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ইন্ধনে এই বিচার ও অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১২টায় সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বৃদ্ধ গোলাম হোসেনের স্ত্রী সাফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকার সুযোগে পাশের বাড়ির আব্দুর রহমানের স্ত্রী সাথি খাতুন পান খাওয়ার উদ্দেশ্যে গোলাম হোসেনের ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার দাবি করে তাদের আটক করেন। তবে ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন ও তার পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে সাজানো ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রী বাড়িতে ছিল না। এ সময় সাথি আমাদের বাড়িতে এসে পান খেতে চায়। আমি তাকে পানের বাটা দেখিয়ে দিলে সে পান নিতে যায়। ঠিক তখনই কিছু লোক অকারণে চিৎকার করে আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়। পরে গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি সালিশ বসিয়ে আমার ওপর ৬ লাখ টাকা জরিমানা চাপানো হয়। পরে হাত-পা ধরে ৩ লাখ টাকায় বিষয়টি রফাদফা করা হয়।”

টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রভাবশালীরা তাদের ওপর চরম জুলুম ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় মানসম্মানের ভয়ে তারা জমি বিক্রি করে এই টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমি যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেছি।

গোলাম হোসেনের স্ত্রী সাফিয়া খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার স্বামী একজন বৃদ্ধ মানুষ। তারা আমাদের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমাদের সম্বল বলতে ছিল মাত্র ৭ শতক জমি, সেটি বিক্রি করেই সালিশের টাকা পরিশোধ করেছি।”

গোলাম হোসেনের ভাই এরশাদ জানান, জোরপূর্বক মিথ্যা অভিযোগ এনে গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একটি সালিশের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন। পরে প্রতিবাদের মুখে মোহাম্মদ আলী তার ভাইকে ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন।

অভিযুক্ত সাথি বেগমের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার শাশুড়ি আনিছা বেগম দাবি করেন, “আমার পুত্রবধূকে গোলাম হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছিল। গ্রামের সালিশে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে গ্রামের লোকজনের আশঙ্কায় আমরা বউমাকে তার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।” টাকা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা কোনো টাকা হাতে পাইনি। শুনেছি আমাদের জন্য ১ লাখ টাকা স্থানীয় এক হুজুরের কাছে রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে স্থানীয় কিছু লোকজনের দাবি, গোলাম হোসেন এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তার চরিত্র নিয়ে এর আগেও এলাকায় নানা গুঞ্জন ছিল।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, “গ্রামের এই অপ্রীতিকর ঘটনা শোনার পর আমি নিজে কোনো সালিশ না করে গোলামের ভাই এরশাদসহ ৬ জনের সমন্বয়ে একটি সালিশ বোর্ড গঠন করে দিই। তারাই বিচার করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেন।”

টাকা ভাগাভাগির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “সাথি বেগম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তার বাপের বাড়িতে চলে গেছেন। বাকি ১ লাখ টাকা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ খরচের জন্য দেওয়া হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, গোলাম হোসেন ঘরের দরজা আটকে সাথিকে জাপটে ধরেছিলেন এবং সাথির চিৎকারে গ্রামের লোকজন তাদের হাতেনাতে আটক করে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে স্থানীয়ভাবেই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *