রাজিবপুরে নবগঠিত – ছাত্রলীগের কমিটিতে পদত্যাগের হিড়িক

রাজিবপুর,(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :কুড়িগ্রামের রাজিবপুর  উপজেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোদালকাটি ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। এ পর্যন্ত সহ সভাপতি, সংগঠনিক সম্পাদক সহ ৪ জন পদত্যাগ করেছেন।
গত ১৪  জানুয়ারি রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ খাইরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ বায়েজিদ ইসলাম (বিজয়) স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের অফিশিয়াল প্যাডে ছাত্রলীগের কোদালকাটি ইউনিয়ন ইউনিয়ন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কিন্তু নবগঠিত কোদালকাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি থেকে সহ সভাপতি মোঃ রাসেল মিয়া,১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুজন মিয়া,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান ও সাংগাঠনিক সম্পাদক মোঃ সুমন রানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে নবগঠিত কোদালকাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটির সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগকারী সুমন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমি কোদালকাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম, কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের অর্থের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় কমিটি দিয়েছে সেই কমিটিতে আমাকে অবমূল্যায়ন করে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে।
ছাত্রলীগ কর্মী ফরিদুল ইসলাম জানান, সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া জন্য আমার কাছে মোটা অংকের টাকা চাওয়া হয়েছিল টাকা দিতে না পারায় আমাকে কমিটিতে রাখা হয়নি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা জানান এ পর্যন্ত ৪ জন পদত্যাগ করেছেন। আরও অনেকেই পদত্যাগ করবেন, লিখিত আকারে জেলা ছাত্রলীগের কাছে জমা দিবেন।
এ প্রসঙ্গে রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ একটি বিশাল সংগঠন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কমিটিগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থের মাধ্যমে কমিটি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট।
  তিনি আরও বলেন, একটি কমিটিতে পদ প্রত্যাশী থাকেন অনেকে। সবাইকে এক পদে বসানো যায়না, সবাই যোগ্য। হয়তো মনের কষ্টে ভুল বুঝে কিংবা পদ না পেয়ে তারা পদত্যাগ করেছেন। তবে শিগগিরই এসব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে এবং তারা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বায়েজিদ ইসলাম (বিজয়) বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য অনেকেই সিভি পাঠিয়েছে সবাইকে তো আর পদ দেওয়া যায় না। আমরা একজন সভাপতি ও একজন কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করি। মূল পদ না পেয়ে হয়ত তারা পদত্যাগ করছে। টাকা পয়সার মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হয়নি এমন কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। একটি কুচক্রী মহল আমাদের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রাজু আহমেদ বলেন, রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রলীগ, সন্মলোন এর দীর্ঘ দিন পর সিভি যাচাই করে  ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটিগুলো থেকে নেতাকর্মীরা পদত্যাগ করেছেন বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার কাছে এখনো কেউ লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *