হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিনিধি আমেরিকা : ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরীর পরিচয়ে এক মহিলার কাছে থেকে নগদ ২৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নেয়ার পর আরো ৩০ হাজার ডলারের ফাঁদ পাতার ঘটনায় নিউ জার্সিতে দুই বাংলাদেশিকে হাতে-নাতে গ্রেফতারের সংবাদ দিয়েছেন রিভারসাইডের পুলিশ। গত ৩১ জুলাই রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানান, এই এলাকার এ্যাগ হারবারেনে বসবাসরত মোহাম্মদ এন ইসলাম (৪৮) এবং ওয়েস্টভিলের বাসিন্দা মোহাম্মদ জেড ইসলামকে (৫৮) উপরোক্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়। জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ জেড ইসলাম চট্টগ্রামের মিরেসরাই উপজেলা এবং মোহাম্মদ এন ইসলাম হচ্ছেন নড়াইলের সন্তান।
পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে থেকেই সেখানকার এক মহিলা অভিযোগ করছিলেন যে, ভয় দেখিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারকেরা তার কাছে থেকে ২৫ হাজার ডলার নিয়েছেন। তার ব্যবহৃত কম্পিউটারে নাকি একটি ভাইরাস তৈরী হয়েছে এবং তা ওয়েলস ফারগু ব্যাংকের নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ অবস্থায় এফবিআই তদন্তে নামতে পারে এবং তিনি মারাত্মক সমস্যায় পড়বেন। এরপরই মহিলাটির কম্পিউটারে একটি ফোন নম্বর পাঠানো হয় অবিলম্বে যোগাযোগের মধ্য দিয়ে ভাইরাস সম্পর্কিত জটিলতা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য।
অর্থাৎ ২৫ হাজার ডলার প্রদান করলে তাকে আর হয়রানির সম্মুখীন হতে হবে না। সে অনুযায়ী মহিলাটি ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয় যে, নগদ ২৫ হাজার ডলার ওয়েলস ফারগু ব্যাংকের নিরাপত্তা রক্ষীকে দিতে হবে। ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা তার বাসা থেকে ওয়েলস ফারগু ব্যাংকের খামে তা গ্রহণ করবেন। সে অনুযায়ী ভীত-সন্ত্রস্ত মহিলাটি ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ডলার ড্র করে বাসায় আনেন এবং এক ব্যক্তি তা সংগ্রহ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই আবারো ফোন করা হয় আরো ৩০ হাজার ডলার প্রদানের জন্য।
পুলিশ জানায়, মহিলার কাছে থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে মহিলাকে বলা হয় ৩০ হাজার ডলার প্রদানে সম্মত হতে। ব্যাংকের নিরাপত্তা রক্ষী পরিচয়ে ওই দু’জন মহিলার বাসায় গিয়ে ৩০ হাজার ডলার নিয়ে বের হওয়ার সময়েই ওঁৎপেতে থাকা পুলিশের হাতে তারা পড়ে। এরপর নিকটস্থ কোর্টে তাদেরকে সোপর্দ করা হয়। তাদেরকে কোর্টে হাজিরার শর্তে জামিন প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা। এমন প্রতারণার ভিকটিমদের (যদি কেউ থাকেন) রিভারসাইড পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে ৮৫৬-৪৬১-৮৮২০ (এক্সটেনশন-১১৪) নম্বরে ফোন করতে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, টেলিফোনে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কিংবা মিথ্যা প্রলোভনে গত কয়েক বছর ধরেই লাখ লাখ আমেরিকানের নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। অনেকের ফোন হ্যাক করেও সর্বনাশ ঘটানো হয়েছে এবং এ অবস্থায় সর্বসাধারণকে সবসময় সতর্ক করা হচ্ছে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে। এমনি অবস্থায় গত ফেব্রুয়ারিতে স্প্যাম কল জালিয়াতির ঘটনায় নিউইয়র্কের বাফেলোতে বসবাসরত চাঁদপুরের সন্তান নিয়ামত উল্লাহকে (৩১) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর তার গাড়ি থেকে স্বর্ণমুদ্রা এবং নগদ লক্ষাধিক ডলারের হদিসও পায় পুলিশ। নিয়ামত উল্লাহ নিজেকে ‘নর্টন এন্টিভাইরাস’ টিমের সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে মোটা অংকের ডলার দাবি করেন।
জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, নিয়ামত উল্লাহসহ একটি চক্র নিজেদের ‘নর্টন অ্যান্টিভাইরাস’ সফটওয়্যারের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তারা দাবি করত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনলাইনে অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন এবং সেই অভিযোগে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তদন্তে এসব দাবি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একটি নিয়ন্ত্রিত অর্থ হস্তান্তর পরিকল্পনা করে এবং নির্ধারিত স্থানে নজরদারি বসায়। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্দেহভাজন উপস্থিত না হলেও সময় পরিবর্তন করে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে অর্থ গ্রহণের কথা জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ে অর্থ নিতে এলে তাকে আটক করা হয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা এবং একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি কোনো বাধা দেননি। নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে টাইগার্ট ভ্যালি আঞ্চলিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে।