শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টারঃ নওগাঁ সদর হাসপাতাল এলাকা ছিনতাই হওয়া দরিদ্র পঙ্গু পরিবারের একমাত্র অবলম্বন চার্জার ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা ফিরে পেয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পরিবার নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হোন পঙ্গু রামকৃষ্ণ সরকার।
ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেন পুলিশ সুপারকে। এমন মানবিক ঘটনায় আবেগাপ্লুত হোন নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। উল্লেখ্য নওগাঁর মহাদেবপুর থানাধীন ভীমপুর ইউপির দক্ষিন লক্ষিপুর গ্রামের বাসিন্দা পঙ্গু রামকৃষ্ণ সরকার এর অভাবি পরিবারের একমাত্র সংসার চালানো আয়ের পথ ছিলো অটো রিকশাটি। রামকৃষ্ণ এর ছেলে রকি অটো রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় সেই আয়ের অর্থদিয়ে কোন রকমে চলতো তাদের সংসার। ঘটনার দিন গত ১০ জুলাই শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতো ভাড়া মারতে রকি অটো রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এক পর্যায়ে যাত্রীনিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এলাকায় যান। সেখানে রকিকে ডাবের পানির সাথে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে অজ্ঞান করে অটো রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরেদিন রামকৃষ্ণ ঘটনাটি মোবাইল ফোনে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপার ঘটনাটি জানার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে নওগাঁ সদর মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ একটি টিম গঠন করে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, ডাটা বিশ্লেষণ করে নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেফতার ও ছিনতাই হওয়া অটো রিকশাটি উদ্ধার করেন পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা অটো রিকশাটি প্রকৃত মালিক রামকৃষ্ণ সরকারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ছিনতাই হওয়া অটো রিকশা ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন রামকৃষ্ণ ও তার পরিবারের সদস্যরা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে রামকৃষ্ণ সরকার তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও সন্তান রকি সরকারকে সাথে নিয়ে সেই অটো রিকশা যোগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। দীর্ঘ কয়েক বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ ও অসুস্থতার কারনে চলাফেরায় অক্ষম হওয়ায় রামকৃষ্ণ সরকার পুলিশ সুপারের কার্যালয় ভবনের উপর উঠতে না পাড়ায় অটো রিকশাতেই বশে ছিলেন এজন্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নিজেই নিচে নেমে এসে রামকৃষ্ণ ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় রামকৃষ্ণ পরিবার ফুলদিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে শুভেচ্ছা জানায় এবং জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। পুলিশ সুপারও রামকৃষ্ণ’র পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা জেলা পুলিশের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলক পুলিশ ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে একই নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাবে। এসময় রামকৃষ্ণ সরকারের বৃদ্ধা মা পুলিশ সুপারের মাথায় হাত রেখে তার ও জেলা পুলিশের জন্য দোয়া করেন। এমন আবেগঘন মহূর্তে উপস্থিত সবার মধ্যে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্তের সৃষ্টি হয়।