বেনাপোল প্রতিনিধি ঃ সুন্দর সাহা দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক পরিচালক মামুন কবীর তরফদারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেনকে বদলি করে নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপপরিচালক (ডিডিএলজি) পদে পদায়ন করা হয়। তিনি গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
গত ছয় মাসে পণ্য চালান ঘাপলা, মিথ্যা ঘোষণা, ওজন কারচুপি ও মালামাল লোপাট সংক্রান্ত ১৪০টিরও বেশি অভিযোগ ও মামলা হওয়ায় বন্দর ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পদটি শূন্য থাকায় দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যাহত হতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
সাবেক পরিচালক মামুন কবীর তরফদারকে ঘিরে অভিযোগ বন্দর ব্যবহারকারী ও বিভিন্ন সংগঠনের । ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে ক্রেন ও ফর্কলিফট পরিচালনাকারী ঠিকাদারদের সঙ্গে অনিয়ম, পণ্যবাহী ট্রেন থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এবং রপ্তানিমুখী ট্রাকের সিরিয়াল এগিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত জানিয়েছেন, অতীতের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তাকে বদলি করা হয়েছিল; ফলে তাকে পুনরায় দায়িত্বে আনা হলে বন্দরের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামুন কবীর তরফদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে কয়েকটি পত্রিকার সুত্র অনুযায়ী, মামুন কবির তরফদার এর বিরুদ্ধে বেনাপোল বন্দরে জাল ম্যানিফেস্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বড় ধরনের তথ্য সামনে এসেছে। ৮৯১টি স্থানে মাত্র ২১৭টি ম্যানিফেস্টের নম্বর সঠিক পাওয়া গেছে এবং বন্দরের ‘অ্যাসাইকুডা’ সিস্টেমে বাকিগুলোর তথ্য মিলেনি।
এই জালিয়াতির ঘটনায় এনবিআরের তদন্ত দল এবং বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অভ্যন্তরীণ অডিট কার্যক্রম শুরু করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই অনৈতিক চক্রের সঙ্গে কাস্টমস ও বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকায় বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলপথে মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্ত বর্তমানে বন্দরে সবকিছু অরক্ষিত। এখানে চুরি সহ শুল্ক ফাকির ঘটনা নিত্যদিনের। বন্ডেড ওয়্যার হাউজে কাজ শেষে রাতে সীল গালা থাকার কথা। সেখানে কোন শেড কাস্টমস সিলগালা করে না। গেট ও খোলা থাকে। সেখানে যে সব নিরাপত্তা রক্ষীরা দায়িত্বে থাকে তাদের যোগ সাজসে অথবা তাদের চোখ ফাকি দিয়ে পণ্য বের হয়ে যায়।