শার্শার পল্লীতে পিটিয়ে মাজার হাড় ভেঙ্গে দেওয়ার ৬ দিন পর থানায় অভিযোগ দায়ের

মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধি: শার্শার পল্লীতে জমি জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মিতু বেগম (৩৬) ও আনোয়ারা বেগম (৫৬) নামে মা ও মেয়েকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা অথবা সমপরিমান জমি লিখে নেওয়ার দাবিতে পিটিয়ে রক্তাক্ত যখম ও মাজার হাড় ভেঙ্গে দেওয়ার ৬ দিন পর থানায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে মিতু   অভিযোগ দায়ের হয়েছে । আহত মিতুকে শার্শা বুরুজ বাগান হাসপাতাল থেকে উন্নত  চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেছে ।  অপরদিকে আনোয়ারা বেগম শার্শা বুরুজবাগান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

অভিযুক্তরা হলেন একাধিক মামলার আসামি সন্ত্রাসী শার্শার ডিহি গ্রামের ত্রাস লালমিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৮) তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (৩০) আব্দুল খালেক (৫৫) তার স্ত্রী জাহানারা জানু (৪৫) আব্দুল খালেক এর মেযে নারসি (৩৪) রহিম বক্সের ছেলে হবিবার রহমান (৪৮)।

মিতুর অভিযোগ পত্রে  জানাগেছে তার চাচা আব্দুল খালেক মিথ্যা দাবি করছে তার পিতা আলী আহমেদ নাকি চাচার নিকট থেকে ২৫ বছর আগে ৫ হাজার টাকা জমি দেওয়ার জন্য নিয়েছিল। অথচ আমার পিতা মারা যায় গত ৩০ বছর পুর্বে।  আমার পিতা এই টাকা নিয়েছে সুদীর্ঘ সময়ে আমি আমার মা ও ভাই কেউ জানি না। সম্প্রতি আমার চাচার জামাতা রবিউল ওরফে রবি গুন্ডা নামে পরিচিত সে আমাদের নিকট ২০ লাখ টাকা অথবা জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। আমরা কোনটাই দিতে রাজী না হওয়ায় রবি সহ উল্লেখিত আসামিরা এবং  অজ্ঞাত আরো ১০ /১২ জন  আমার মা ও আমাকে গত ২৬ মার্চ লাঠি সোঠা দিয়ে বেদম ভাবে প্রহর করে। আমাকে এমন ভাবে তারা পিটায় যে আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছি না আমার মাজার একটি হাড় ভেঙ্গে গেছে। শার্শা হাসাপাতাল আমাকে উন্নত চিকৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে।

অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে ওই দিন নাভারন হাসপাতালে তারা ভর্তি হলে রবি মিতুর ভাই জাহিদুল ইসলাম (৩২) ও ভাগ্নে মনির হোসেন (২৮) কে হাসপাতালের মধ্যে মারপিট করে। এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। যার আলামত শার্শা থানার এস আই এবারাত জব্দ করেছে।  থানায় অভিযোগ করার পর  রবি তাদের হত্যার ও হুমকি প্রদান করছে। বর্তমানে মিতু ও তার ভাই বাড়িতে উঠতে পারছে না রবির ভয়ে। বাড়িতে উঠলে তাদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয় শার্শা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আল মামুন বাবলুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রবি কারো কোন কথা শোনে না। সে মানুষের সন্মান রাখে না। আমরা তাকে অনেক বুঝিয়েছি সে কোন কথা শোনে না।
মিতু বলেন বর্তমানে সে গ্রামে গিয়ে সবাইকে তার পক্ষে সাক্ষি দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। গ্রামের সবাই এই গুন্ডার ভয়ে সঠিকটা বলতে সাহস পায় না।

এ বিষয় শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিতু বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *