হাকিকুল ইসলাম খোকন, আমেরিকা : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার, অনুষ্ঠিত দলীয় প্রতিনিধি সভায় পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি-যুবদলের সন্ত্রাসীদের ফ্যাসিবাদী কায়দায় ন্যক্কারজনক হামলা, ভাঙচুর, কার্যালয় দখল এবং উপস্থিত নেতৃবৃন্দের নির্বিচারে গণগ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা বাংলাদেশের জন্য একটি অশনিসংকেত। আমরা বারবার বলে আসছি, গণতন্ত্রের বাতাবরণে বিএনপি মূলত একটি গণতন্ত্র-বিরোধী অপশক্তি এবং ক্যান্টনমেন্ট থেকে জন্ম নেয়া এই দলটি কখনোই মানুষের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করে না। যতই আড়াল করার চেষ্টা করুক না কেন, সময়ে সময়ে তাদের এই ফ্যাসিবাদী চরিত্রটি প্রকাশ হয়ে পড়ে। এমনকি সাংবাদিকও এই হামলা-গ্রেফতার থেকে রেহাই পায়নি। এহেন হামলা-দখল-গ্রেফতারের মাধ্যমে বিএনপির স্বরূপ আবারও জনগণের সামনে উন্মোচিত হলো।
জাসদ বাংলাদেশে কোনো নিষিদ্ধ কিংবা বেআইনি রাজনৈতিক সংগঠন নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যথাযথ অনুমতি নিয়ে একটি বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত অভ্যন্তরীণ সভা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে বিএনপি-যুবদলের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে এটি সুষ্পষ্ট যে, মব সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই এই ঘটনাটি ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে নির্মূল করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয়সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দখলের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। যা একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য চরম হুমকি স্বরূপ এবং বহুদলীয় রাজনীতির অন্তরায়। অথচ পাতানো নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তথাকথিত রাজনৈতিক দলটি নিজেদেরকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুরোধা হিসেবে উচ্চকণ্ঠ, বাস্তবে তাদের বহুদলীয় গণতন্ত্র হলো স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল অপশক্তিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন, যা দেশবাসীর কাছে এখন স্পষ্ট।
বিগত ৭ মাসে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ এই সরকারের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ যেন রাজপথে নেমে না আসে, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিরুদ্ধ মত দমনে তৎপর হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭৫ ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সামরিক আইন জারি করে সকল রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশের সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমানের সময়ে আলাদাভাবে জাসদ ও সিপিবি-কে নিষিদ্ধ করেছিল এবং অঘোষিতভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। এভাবে বহুদলীয় রাজনীতির ওপর চরম দমন-পীড়ন চালানোর মাধ্যমে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ও অকার্যকর করার অপচেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো জনগণ ঠিকই জবাব দিয়েছে, এবারও দেবে।
বিবৃতিতে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চায় যে, অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একই প্রক্রিয়ায় আবারও প্রতিক্রিয়াশীল বিএনপি-জামাত-এনসিপি গোষ্ঠী ও পর্দার আড়ালের অপশক্তির যোগসাজশে দেশকে নৈরাজ্যতার দিকে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা এবং মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী অপশক্তির সাথে আঁতাত করে বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারাকে নির্মূল করার এই গভীর চক্রান্ত এদেশের জনগণ কখনোই সফল হতে দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ মনে করে এখনো সময় আছে- সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে জাসদ কার্যালয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে এবং জাসদের গ্রেফতারকৃত সকল নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিককে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা সংবাদ সংস্থা বাপসনিউজকে জানিয়েছেন ।বিবৃতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী শক্তির অশুভ তৎপরতা প্রতিহত করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। বহুত্ববাদের বাংলাদেশ বিনির্মাণের আপসহীন লড়াইয়ে আমাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।