আনিসুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ বেনাপোলে সতন্ত্র প্রার্থীর উপর নৌকা প্রতীকের সন্ত্রাসীদের হামলা ও বেধড়ক মারপিট। নিন্দার ঝড় ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।
সুন্দর সাহা পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারনায় ৮৫ যশোর (শার্শা-১) আসনের সতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন এর উপর নৌকা প্রতীকের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। স্থল বন্দর বেনাপোলের ৯২৫ এর সভাপতি রাজু আহমেদ, চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্য ও স্থল বন্দরের লেবার সর্দার রশিদ মল্লিক, ও মন্ডল নামে তিন সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে হামলা হয়। এই হামলায় শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক আজিবর রহমান সহ ৮/১০ গুরুতর আহত হয়। তবে আজিবর রহমান এর দুই হাত ও একটি পা সন্ত্রাসীরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙ্গে দেয়। তাকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এ ঘটনায় শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফারজনা ইসলাম নির্বাচন আচারন বিধি লংঘনের জন্য তিনজনকে ৫০০০ টাকা করে মোট ১৫০০০(পনের হাজার ) টাকা জরিমানা করেন। তবে এ ঘটনায় ট্রাক প্রতীকের সতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন অভিযোগটি গ্রহন করেন নাই। ঘটনাস্থলে যশোর এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশী পরিদর্শন করেন। এঘটনায় আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী সহ এলাকার জনগন বিকাল সাড়ে ৩ টায় বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
সন্ত্রাসী রাজুর বাড়ি বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামে, রশিদ মল্লিক এর বাড়ি রঘুনাথপুর গ্রামে ও মন্ডলের বাড়ি একই থানার ভবেরবেড় গ্রামে। এই তিনজনকে ডেকে শার্শা উপজেলা সহকারী ভুমি কমিশনার ফারজনা ইসলাম প্রত্যেককে ৫০০০ হাজার করে মোট ১৫০০০ (পনের হাজার ) টাকা জরিমানা করেন।
সন্ত্রাসীদের হামলায় আহতরা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান (৫০) ইয়াসির আরাফাতাত শান্ত (২৫) রায়হান (৩২) সাবেক বেনাপোল পৌর প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু (৫৫) বিপ্লব (৫২) ।
আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল মিয়া জানান, সকাল ৮ টার দিকে বেনাপোল চেকপোষ্টে ট্রাক প্রতিকের সতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে প্রচার ও এলাকার মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে পায়ে হেটে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে করতে যাওয়ার সময় বেনাপোল বন্দরের ২ নং গেটের বিপরীত দিক থেকে আকস্মিক ভাবে রশিদ সতন্ত্র প্রার্থীকে গালাগালি করতে থাকে। এসময় রাজু ও মন্ডল এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এসে প্রার্থীর জামারর্ টেনে ধরে। দ্রুত নেতা কর্মীরা লিটনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক আজিবর রহমানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দুটি হাত ও একটি পা ভেঙ্গে দেয়। এবং আরো ৮/১০ জনকে তারা পিটিয়ে আহত করে। এসময় তাদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি দা দেখা যায়। যা বেনাপোল স্থল বন্দরের সিসি ক্যামেরা ওপেন করলে দেখা যাবে।
এ ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সতন্ত্র প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বেনাপোল পৌর সভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, আমি চেকপোষ্ট থেকে এখানে আসার পর সবাইকে সালাম দেই। সকলের সাথে হাত মিলাই। এরপর রশিদ নামে একজন আমাকে মা তুলে গালাগালি করে এবং আমাকে মারতে আসে। তখন আমি হেটে সামনে চলে আসি। এরপর রাজু আমাকে অপমানিত করে। এই রাজু ও রশিদ স্থল বন্দরে মাস্তানি করে। এরা আজিবর সাংবাদিক সহ আমার ৮/১০ জন নেতা কর্মীকে এরা মারে। আজিবর এর অবস্থা খুব খারাপ। এরা উপজেলার সব জায়গাতে মাস্তানি করে শার্শাকে জিম্মি করে রাখে। তিনি বলেন আমাকে কেউ থামাতে পারবে না। ্আমি নির্বাচন করব এবং শার্শা বাসিকে আমি এই জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করব। তিনি বলেন এধরনের ঘটনায় আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। আমি মরে না গেলে নির্বাচন থেকে এবং শার্শা বাসিকে ছেড়ে যাব না। তিনি বলেন এই সন্ত্রাসীরা জেল খানায় না থাকলে সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। রাজু সর্দার লাঠি দিয়ে আমাকে যে বাড়ি মেরেছিল একজন হেলমেট দিয়ে তা প্রতিরোধ করেছে। সে না ঠেকালে আমি মারা যেতাম। আমার বেনাপোল পৌর সভার সাবেক প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টুকেও সে মারধর করে।
এব্যাপারে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত এসপি বেলাল বলেন, নির্বাচন আচারন বিধি লংঘনের দায়ে উপজেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তিনজনকে জরিমানা করেছেন। এধরনের ঘটনা যাতে পুনারায় না ঘটে তার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি সুমন ভক্ত জানান, একই ঘটনার বিচার হয়েছে । তাদের জরিমানা করা হয়েছে। তার জন্য আমি থানায় আর অভিযোগ নিতে পারি না। তবে সাংবাদিক আজিবর রহমান এর গিরিবিয়াস সার্টিফিকেট নিয়ে আসলে আমি অভিযোগ নিব।
বিকাল সাড়ে তিনটায় বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে দ্বাদশ জাতিয় সংসদ নির্বাচন ৮৫ যশোর শার্শা- ১ আসনে সতন্ত্র প্রার্থী ও তার সহকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।
এ সমাবেশে সন্ত্রাসীদের প্রাসনের কাছে গ্রেফতার আহবান করে বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ আযম, বেনাপোল পৌর সভার সাবেক প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু, যশোর জেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের কার্যকরি সদস্য জাকির হোসেন আলম।