“পল্লী গ্রামের ছেলে বিসিএস প্রশাসনে ৪২ তম”

জাকির হোসেন, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহারা গ্রামের ইতিহাসে এই প্রথম বিসিএস প্রশাসন (ম্যাজিস্ট্রেট ) ক্যাডারে পল্লী গ্রামের ছেলে উত্তীর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসী ও পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলের এমন সাফল্যে এলাকাবাসী গর্ববোধ করছে। সদ্য সুপারিশপ্রাপ্ত ছেলেটির প্রধান লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা।

জানাগেছে, পানিহারা গ্রামের মৃত সোফিউর রহমান (সেন্টু) এর ছেলে আবু সালেহ মো: নাসিম ; ৪১তম বিসিএস থেকে প্রশাসন ক্যাডারে ( মেধাক্রম-৪২) উত্তীর্ণের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে। নাসিমের বাবা পেশায় সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন এবং মা মোসা: মমতাজ বেগম একজন গৃহিণী। এই দম্পতির পরিবারে ১ মেয়ে ও ১ ছেলে। নাসিম সবার বড়। তাদের ছোট মেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। ২০২০ সালে চাকুরীরত অবস্থায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেন নাসিম। মমতাময়ী মায়ের অসীম ধৈর্য্য, সাহস ও পরিশ্রমে আজ সফল তিনি। নাসিম ছোটবেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি ছেলেবেলা থেকেই বাবার চাকরির কারণে গ্রামের বাইরে লেখাপড়া করেছেন। দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে গোল্ডেন এ প্লাস পান ও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড এর মেধাবৃত্তিতে ৩০তম হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রী কলেজ,রাজশাহী থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আবার ও গোল্ডেন এ প্লাস পান। এইচ এসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের মেধাবৃত্তিতে তার অবস্থান ছিল ১৪ তম।সবশেষে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( রুয়েট) থেকে ২০১৮ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন নাসিম।

মেধাবী নাসিম জানান, ছোটবেলা থেকে বাবার মুখে এলাকার অবহেলিত,সাধারণ মানুষের কথা শুনে আসছি । লক্ষ্য ছিল তাদের জন্য কাজ করার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। মহান আল্লাহ সে স্বপ্ন পূরণ করেছেন। অসহায় মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করে এ পর্যায়ে এসেছি। এছাড়া ও আমার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর জিলা স্কুলের স্যারদের অসীম উৎসাহ লক্ষ্য নির্ধারণে শক্তি জুগিয়েছে।

গৃহিনী মা মমতাজ বেগম জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ভীষণ মনোযোগী ছিলো তার ছেলে। মেধাবী হওয়ায়, স্বপ্ন দেখতাম প্রাথমিকে বৃত্তি পাবে। সে স্বপ্নও পূরণ করেছিলো।দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সে
ট্যালেন্টপুলে ২য় হয়েছিল। ছোট থেকেই তার প্রবল আত্মবিশ্বাস ছিলো। ৮ম শ্রেণীতে ও দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে সে বৃত্তি পেয়েছিল।আমার ছেলে ছিল দিনাজপুর জিলা স্কুলের বিতর্ক প্রতিযোগিতা দলের দলনেতা।অদম্য প্রচেষ্টায় সে এগিয়ে গেছে তার গন্তব্যে। বাকি জীবনটা দেশ ও দশের কল্যাণে নিবেদিত থাকবে এই প্রত্যাশা করি। তার সাফল্যে এলাকাবাসী গর্বিত। সবার কাছে আমি আমার ছেলের জন্য দোয়াপ্রার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *