বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব ধ্বস: চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই সে ঘাটতি ৭১৩ কোটি টাকা

মো: আনিছুর রহমান বেনাপোল প্রতিনিধি:  ঘুষ দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অতিরিক্ত সময়পেণের কারণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধ্বস নেমেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস (জুলাই ও আগস্ট) এনবিআরের নির্ধারিত ল্যমাত্রার চেয়ে ৭১৩.০৩ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও আমদানিতে জটিলতা বৃদ্ধির ফলে অনেকেই এই বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ল্যমাত্রা ও রাজস্ব আদায়ের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো । ল্য  মাত্রা প্রকৃত রাজস্ব আদায় ঘাটতির পরিমাণ (জুলাই ২০২৬)  ৯৫০ কোটি টাকা টার্গেটে আদায় হয়েছে  ৪৭৯.৯০ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে ৪৭৯.১ কোটি টাকা  ও (আগস্ট ২০২৬) লক্ষমাত্রা ছিল  ৭৪৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে ৫০০.৩৭ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে ২৪২.৬৩ কোটি টাকা। মোট ১৬৯৩ কোটি টাকা টার্গেটে ৯৭৯.৯৭ কোটি টাকা আদায় হয়েছে এবং ঘাটতি রয়েছে ৭১৩.০৩ কোটি টাকা

উল্লেখ্য, জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১৩.০৩ কোটি টাকা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের একশ্রেণির বৈধ  আমদানিকারক ও সিঅ্যএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কাস্টমস হাউসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার লালসার শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সঠিক সময়ে পেপার ছাড় না করা, অতিরিক্ত হয়রানি, বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল  আটকে রাখা এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আমদানি খরচ ও সময় দুটোই বাড়ছে। এর ফলে অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করছেন, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)।

বৈধ ব্যবসায়ী  ও সচেতন মহল মনে করছেন, বেনাপোল কাস্টমসে চলমান দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমন না করলে এবং বন্দর সেবার মান বৃদ্ধি না করলে রাজস্ব আহরণের এই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। অবিলম্বে কাস্টমস কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বানান ঠিক করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *