হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিনিধি আমেরিকা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেছেন, বর্তমান বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ও কথা বলার অধিকার আজ অবরুদ্ধ। তবে দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোনো অপশক্তি অতীতে টিকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও টিকতে পারবে না।
গত ২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বুদ্ধিজীবী,কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সংগঠন “স্মরণে ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ” অনলাইন গ্রুপ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশ ও প্রবাসের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে সুজিত রায় নন্দী বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকল সহযোদ্ধাকে একত্রিত হয়ে দেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
বঙ্গবন্ধু সু কন্যা শেখ হাসিনাকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ইস্পতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। অতীতে নিজেদের কিছু ভুলের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সেই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি শান্তিময় বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সরকার বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চায়। ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট এবং ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট একই সূত্রে গাঁথা। ইউনুস ও বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের সজাগ ও প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার পক্ষে আজ দেশের লক্ষ কোটি মানুষ অবস্থান করছেন।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অনেকেরই এখন ভুল ভেঙেছে। ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা আরও বেশি শক্তিশালী ও সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা শান্তির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পুনরায় জেগে উঠেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হতাশার কোনো কারণ নেই, রাত যতই গভীর হবে আলো ততই নিকটে আসবে।”
প্রধান বক্তার বক্তব্য: অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এম আবদুস সবুর বলেন, বিএনপির দুঃশাসন এখনো চলমান রয়েছে এবং বর্তমান শাসকরাও একই পথ বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশকে দেউলিয়া করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ১৯৮১ সাল এবং ওয়ান ইলেভেনের সময়ের মতো সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধু সুকন্যা শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে মাথা উঁচু করে যথাসময়ে দেশে ফিরে আসবেন।
“স্মরণে ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ”-এর আহ্বায়ক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট মানিক লাল ঘোষের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক ওয়ারেছুন্নবী খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব সিনিয়র সাংবাদিক ও কবি শফিক বাবু।
এছাড়াও ভার্চুয়াল এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গ্রীস শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাওলাদার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. জি এম তরিকুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল মতিন ভূঁইয়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক সোমা ইসলাম, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজেদা পারভীন সাজু ও আহমেদ রাসেল (যুক্তরাষ্ট্র), নির্বাহী সদস্য সেলিনা আকতার জোছনা ও খন্দকার তারেক রায়হান (যুক্তরাজ্য), এবং সাংবাদিক এইচ এম দুলাল, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন, সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রাজ, সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম, সাংবাদিক জাহির উদ্দিন ও সাংবাদিক যুগল চন্দ্র শীল পলাশসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।