তমালিকা মল্লিক প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহপ্রভাবের শিকার। ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও জীবিকা সংকটপ্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি তুলে ধরতেসাতক্ষীরার ক্লাইমেট অ্যান্ড অ্যাডাপ্টেশন নলেজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টারেসোমবার অনুষ্ঠিত হলো কমিউনিটি ভয়েজেস ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন–এর আঞ্চলিক সংলাপ। সংলাপটির আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়নসংস্থা লিডার্স।
সংলাপে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, এনজিওপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক–শিক্ষার্থী, বিশেষভাবে সক্ষমব্যক্তি, নারী ও যুব সংগঠনের নেতা, আদিবাসী প্রতিনিধি, কৃষক, বনজীবী, ব্যবসায়ী, বাঘবিধবা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরাঅংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনসম্মেলন (কপ৩০), যা এ বছর ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের বেলেমশহরে অনুষ্ঠিত হবে, সেটি হবে বৈশ্বিক জলবায়ু কূটনীতির জন্য একগুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সুযোগ।
সংলাপে আলোচকরা উল্লেখ করেন, গ্লোবাল স্টকটেক (GST) বাস্তবায়ন, ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ তহবিল (Loss & Damage Fund) দ্রুত কার্যকরকরা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ন্যায্য রূপান্তর, বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ—এসব বিষয়কেকপ৩০ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে।
একজন স্থানীয় নারী প্রতিনিধি বলেন, “আমরা প্রতিদিন পানি সংগ্রহ ওজীবিকা রক্ষার সংগ্রামে লড়ছি। আমাদের অভিজ্ঞতা যদি বৈশ্বিকআলোচনায় না পৌঁছায়, তবে বাস্তব সমাধান আসবে না।” অপর এককৃষক যোগ করেন, “লবণাক্ত মাটি আমাদের ফসল নষ্ট করছে।অভিযোজন কৃষির জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এখন সময়ের দাবি।”
অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত নাহলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তাইবাংলাদেশের পক্ষ থেকে কপ৩০–এ স্পষ্ট ও শক্তিশালী দাবি উত্থাপনকরতে হবে।
সংলাপ শেষে আয়োজকরা জানান, স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও জনগণেরপ্রস্তাবনা লিখিত আকারে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানো হবে, যা বাংলাদেশেরঅবস্থানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করবে। তাদের মতে, কপ৩০ শুধুই প্রতিশ্রুতির জায়গা নয়, বরং বাস্তবায়নের নতুন পথচলাশুরু করার একটি অনন্য সুযোগ।