বেনাপোলে সর্বনাশা মাদকের থাবা, সীমান্তে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে মাদকের আতঙ্কজনক বিস্তার ঘটেছে। পুটখালি ও দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবাধে প্রবেশ করছে ফেনসিডিল, ইয়াবা এবং বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য। এসব মাদক সেবন ও ক্রয়ের জন্য যশোর, নড়াইল, মাগুরা, নাভারণ ও ফুলতলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ছুটে আসছে যুব ও কলেজপড়ুয়া তরুণেরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকসেবীদের একটি বড় অংশ খুলনা ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে ট্রেনে এবং মোটরসাইকেলে বেনাপোল ও আশপাশের এলাকায় এসে মাদক সেবন করে চলে যায়। বর্তমানে বেনাপোলের ভবেরবেড় গ্রামের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এই গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবেরবেড় গ্রামের চিহ্নিত নারী মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাগরিকা, তার বোন তানজিলা এবং একই এলাকার কুলসুম অন্যতম। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকলেও তারা পুলিশ ও প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে এখানে বাবু ওরফে নড়াইলের বাবু তার স্ত্রী কুলসুম মাদকের ডিলার। সে অত্র এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী আসমার সাথে যোগসাজসে টেকানথ ও কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে ব্যবসা করে। আসমা ছিল মাদক সম্রাট সেলিম এর স্ত্রী। যে সেলিম বছর দশেক আগে মাদক ব্যবসার জন্য বন্দুক যুদ্ধে ক্রস ফায়ারে মারা গিয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য এসব মাদক ব্যবসায়ীকে ভালোভাবে চিনলেও তাদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো পদপে নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বেনাপোলের  ভবেরবেড় গ্রামের এই এলাকাটি বর্তমানে মাদকের নিরাপদ আখড়া হিসেবে পরিচিত, যেখানে সহজেই সব ধরনের মাদক পাওয়া যায়।

সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদকের দু-একটি ছোট চালান বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) হাতে আটক হলেও বড় অংশটি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে  মাদক উদ্ধার হলেও সে অনুপাতে গ্রেফতার হয় না মূল ব্যবসায়ীরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়।

শার্শার কায়বা, হরিচন্দ্রপুর, গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত দিয়েও নিয়মিত আসছে বিভিন্ন মাদক। অন্যদিকে ঘিবা এবং ধন্যখোলা বাহাদুরপুর সীমান্ত দিয়ে আসছে বড় বড় গাঁজার চালান।

মাদক চোরাচালানের এই বেপরোয়া পরিস্থিতি রোধে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কঠোর হস্তপে এবং কার্যকর অভিযান দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *